
- পড়ার সময়: ৭ মিনিট
উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল সামাল দিতে বাংলাদেশে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেটের সবগুলোই খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে তিস্তাসহ অন্যান্য নদীর পানি বেড়ে বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে।
প্রতি বর্ষায় ভারতের অংশে তিস্তা নদীর ওপর বাঁধ খুলে দেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশও তিস্তা ব্যারাজের গেট খুলতে বাধ্য হয়। ফলে নদনদীর পানি হঠাৎ করেই বেড়ে বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এবারও ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ার পর বাংলাদেশের নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার নদ-নদীর পানি বেড়েছে।
তিস্তা নদীর পানি কিছু পয়েন্টে বিপৎসীমার কয়েক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বুধবার দুপুর পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় পানি প্রবেশ না করলেও বন্যার শঙ্কা থাকায় তিস্তা ব্যারাজ সংলগ্ন নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পানি যেভাবে বাড়ছে তাতে উত্তরের নদী তীরবর্তী বিভিন্ন জেলার নিচু এলাকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তিস্তার ৪৪টি গেটই খোলা রয়েছে," বিবিসি বাংলাকে বলেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী রেজাউল করিম মানিক।
প্রতিবছর এই সময়, বিশেষ করে জুন-জুলাই মাসের দিকে, বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা বন্যার কবলে পড়ে, যার মূল কারণ হিসেবে বৃষ্টি ও উজান থেকে হঠাৎ করেই নেমে আসা পানির ঢলের কথা বলা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের যে মাত্রায় বৃষ্টি হয়, তাতে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা হওয়ার শঙ্কা কম। কিন্তু উজানের দেশ ভারতের সঙ্গে থাকা আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোতে তৈরি করা বাঁধ খুলে দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে প্রতিবছরই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করছে।
Post a Comment